📢 Sponsor post

ফ্রিতে Payoneer মাস্টারকার্ড নিন খুব সহজে

আসসালামু আলাইকুম। কিছুদিন আগে popads নামক একটি ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে মাস্টারকার্ড অর্ডার করা যেত। কিন্তু সেই অফারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে...

ব্লগ কি? ব্লগার কারা? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্লগিং সম্পর্কে নেতিবাচকতা

এতোদিন ব্লগিং করার পর হঠাত ব্লগ সম্পর্কে বলছি। লিখতেই লজ্জা লাগছে। তবে না লিখে পারছিনা। আপনারা সবাই ব্লগ এবং ব্লগার মানে ভালোভাবে জানেন বুঝেন। কিন্তু আসলে আমি আপনাদের ব্লগ কাকে বলে আর ব্লগারই বা কারা এসব বিষয়ে জানানোর জন্য লিখছিনা। তাই কিছু মনে করবেন না। আমি ব্লগিং জগতে আসা নবীনদেরকে কিছু বলার উদ্দেশ্যে লিখছি। আরও লিখছি তাদের উদ্দেশ্যে যাদের ব্লগ এবং ব্লগার শব্দ নিয়ে খানিক চুলকানি আছে। নিয়মিত ব্লগ পাঠকরা শুধু পড়ে যান এবং আপনার মতামত জানিয়ে চলে যান। আর নতুনরা দয়া করে পড়ুন, বুঝুন, ধারনা পাল্টান।
ব্লগিং নিয়েই লিখছি। আর ব্লগ কি তা না বললে চলবে কিভাবে?? তার আগেও বলে রাখি, এই লেখাটা ব্লগিং নিয়ে সাম্প্রতিক চলমান অবস্থাকেও উদ্দেশ্য করে লিখছি। আশা করি বুঝেছেন। চলে যাই স্বরবর্ণে। মানে আগে জেনে নেই ব্লগ কি, ব্লগার কারা?
উইকিপিডিয়ার দিকে যদি তাকাই, উইকিপিডিয়া থেকে যদি জানতে চাই যে ব্লগ কি তাহলে ঘুরে আসুন এই লিংক থেকে। উইকিপিডিয়ায় ব্লগ বলতে ব্যক্তিগত দিনলিপি বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকাকে বুঝানো হচ্ছে। ঠিক তাই। ডায়েরি তো চিনেন? হুম, এক কথায় ডায়েরীর অনলাইন ভার্সনকেই আমরা ব্লগ বলতে পারি। আমরা যে ব্যক্তিগত ডায়েরী লিখে থাকি তা সাধারণত নিজে লিখি, নিজেই পড়ি, নিজেই লুকিয়ে রাখি। সেই ডায়েরীর কোন পাঠক নাই। আর ব্লগ অর্থাৎ অনলাইন ডায়েরীর পাঠক আছে, সেখানকার লেখা কেউ এসে পড়বে। যিনি এই অনলাইন ডায়েরী লিখেন তাকে বলা হয় ব্লগার। এখন অনলাইনে যেখানেই কেউ লিখুক না কেন তাকে কিন্তু আমরা ব্লগার বলব। তবে মনে রাখবেন শুধু লিখলেই ব্লগার বলা যাবেনা। গণহারে আমরা যদি ব্লগার টাইটেল লাগায় দেই মানুষের আগে পিছে তাহলে তো ভাই লেখক, কবি, সাংবাদিক টাইটেল গুলা লাগানোর লোক থাকবেনা। তাহলে প্রশ্ন ব্লগার কে? আমরা এবার লাইনে আসছি। আচ্ছা ভাই বলুন তো, আপনার ডায়েরীতে কি অন্য কেউ এসে লিখে দিয়ে যায়? কখনই নাহ! লিখেন শুধু আপনিই। যা ইচ্ছা তাই লেখেন, অথবা কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর যা মনে আসে সেটাই লিখেন। এখানে কেউ বাঁধা দেয় না। জি, অনলাইনেও যারা লেখেন তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। কেউ ব্লগার, কেউ সাংবাদিক। সাংবাদিক টেনে আনলাম কেন জানেন? সাংবাদিক আর ব্লগার অনেক কাছাকাছি। শুধু একটা পার্থক্য আছে। ধরুন একটা অনলাইন পত্রিকার একজন সাংবাদিক কোন একটা বিষয় নিয়ে নিউজ বা প্রতিবেদন করল। নিউজ লিখল আর সেটা ছাপা হয়ে গেল? মোটেও না! ছাপার আগে পত্রিকার এডিটর বা সম্পাদক সেটা পড়বেন। যদি মনে করেন ছাপানো যায় তাহলে ছাপাবেন আর না মনে করলে ছাপাবেন না। এছাড়াও রয়েছে হাজারো বিধি নিষেধ। কিন্তু ব্লগার হলো সেরকম জাতেরই। কিন্তু এনার পাওয়ার সামান্য বেশী। ইনি নিজেই লেখেন, নিজেই সম্পাদক, নিজেই প্রকাশক। এক কথায় ব্লগার হলেন মহা রাজা। যা ইচ্ছা তাই। কোন একটা ঘটে যাওয়া দুর্নীতি সম্পর্কে একজন ব্লগার লিখতে চাইলেন তিনি লিখে ফেলতে পারেন সেটা ব্লগে প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু একজন সাংবাদিক কিন্ত চাইলেই পারবেন না। কারণ সেই নিউজ প্রকাশ সম্পাদকের উপর নির্ভর করে। আরেকটা বড় পার্থক্য রয়েছে। সাংবাদিকের লেখা নিউজ মার্জিত উপস্থাপন করেন, নির্দিষ্ট নিয়ম ধারায় লেখেন, লেখার ভাষার নিয়ম কানুন আছে। কিন্তু ব্লগারের তা নেই। ব্লগার চাইলে কিন্তু তিনি আঞ্চলিক ভাষায়ও লিখতে পারেন। আমার দৃষ্টিতে এটাই হল ব্লগিং। আশা করি নতুনরা বুঝতে পেরেছেন। 
দ্বিতীয় বিষয়ে আসি। আমি বলেছি ব্লগারের ধরা বাঁধা কিছুই নেই। এখন লিখছেন খেলার কোন এক ম্যাচের বিচার বিশ্লেষণ নিয়ে পরক্ষনে আবার লিখছেন রাজনীতির কোন এক বিষয় নিয়ে। এক কথায় যাকে বলা হয় স্বাধীনতা। আবার কোন ব্লগার শুধু এক ধরনের বিষয় নিয়েই লেখেন। যেমন আমি টেকনোলোজি বিষয়েই লিখি। যদিও মাঝে মাঝে অন্যান্য বিষয়েও কিছু লেখার চেস্টা করি। কারণ আমি ব্লগার। আমার স্বাধীনতা আছে। এই যে, আজ আমার মনে হলো আমি ব্লগ কাকে বলে সে বিষয়ে কিছু লিখব। সেটাই লিখলাম। এই লেখাটা কিন্তু আমি আমার ব্যক্তিগত ডায়েরীতেও লিখতে পারতাম। তাতে হয়ত কেউ পড়ত না। যদি আমি সেই পার্সোনাল ডায়েরী লুকিয়ে রাখতাম। কিন্তু আমি একজন ব্লগার। তার মানে আমি আমার আজকের লেখা আমার ব্লগে প্রকাশ করছি। আপনি পড়ছেন। আমার অনলাইন ডায়েরীর লেখা কেউ না কেউ পড়বে। অনলাইনে যেকোথাও স্বাধীনভাবে লিখলেই সেটাকেই ডায়েরী বা ব্লগিং প্লাটফর্ম হিসেবে ধরে নেয়া যায়। যেমন, কেউ আছেন সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে (ফেসবুক, টুইটার) লেখেন, কেউ আবার সামহয়্যার ইন ব্লগের মতো মাল্টি ব্লগিং প্লাটফর্মে লেখেন আবার কেউ চাইলে নিজের নামে নিজের অনলাইন ডায়েরী অর্থাৎ পার্সোনাল ব্লগ খুলেও লিখে থাকেন। আমি যেমন আমার ব্যক্তিগত নিজস্ব ব্লগেও লিখি আবার লিখি টেকটিউনসেও। লেখা কেমন হলো সেটা ব্লগারের বিবেচ্য বিষয় নয়। লেখা ভালো লাগা মন্দ লাগা পাঠকের উপর। তিনি লিখেই যান আর লিখেই যান। এজন্য আমার মতে, অনলাইনে নিজস্ব মতামত বা যা কিছু লিখলেই তাকে আমরা ব্লগার বলতে পারি। কিন্তু বার বার একটা কথাই বলছি, নিজে কিছু লিখতে হবে। সেটা ভালো খারাপ বলে কথা নয়। কিন্তু লক্ষ্য করা যায়, কিছু পাবলিক অন্যের লেখা কপি পেস্ট করেও নিজেকে ব্লগার বলে দাবি করেন। লোল... এসব পাবলিক শুধু নিজেরা নিজেদের ব্লগার বলে সম্বোধন করেন। যদিও অন্যরা তাদের ডাকেন না ব্লগার নামে। যাক তাই সেইসব পাবলিকদের নিয়া কিছু বলব না। সেইসব পাবলিক ইতিমধ্যে লজ্জা পেয়েছেন। ভাই নিজে দুইটা স্বাধীনভাবে কিছু লিখেন তাহলেই আপনি ব্লগার। 
এখন আসি দুঃখের ব্যাপারে। এদের নিয়া বলতেও লজ্জা লাগে। বাংলাদেশে এখন এক ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ব্লগার মানেই এখন নাস্তিক! যদিও এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে গোটা কয়েক কুলাঙ্গার ব্লগারের জন্য। বাংলাদেশে ব্লগার শব্দটা এখন পরিচিত শব্দ হয়ে দেখা দিলেও এর আগে সেরকম ছিল না। দুঃখের ব্যপার এই শব্দটা বাংলাদেশে উঠে এসেছে গুটি কয়েক নাস্তিক ব্লগারদের মাধ্যমে। এক কথায় বলা চলে, বাংলাদেশে ব্লগারদের উদ্ভোধন হয়েছে নাস্তিক ব্লগারদের মাধ্যমে। ফলে দেশে এখন সাধারন মানুষের মাঝে ব্লগার মানেই নাস্তিক। এমন নেতিবাচক ধারণার জন্য আমরা আজ টেকনোলোজি ব্লগার বা অন্য ব্লগাররা নিজের পরিচয় দিতেও লজ্জা বোধ করি, ভয় পাই। সেইসব সাধারন মানুষ হয়ত আজ আমার এ লেখা পড়ছেনা। পড়লে তাদের আমি বুঝাতে চেস্টা করতাম ব্লগার মানে নাস্তিকতা নয়। মানব জাতির মাঝে যেমন একটা কুলাঙ্গার শ্রেনী থাকে। সেরকম ব্লগারদের মাঝেও রয়েছে এরকম একটা শ্রেনী। যারা মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে ধর্ম কে নিয়ে বাজে কথা বলে। যা মোটেও ঠিক না। ব্লগারদের মধ্যেও শ্রেনী আছে। কেউ লিখে টেকনোলোজি নিয়ে, কেউ লিখে রাজনীতি আর কেউ বা লিখে অন্য কিছু নিয়ে। কিন্তু কেন সেই এক শ্রেনীর ব্লগারদের জন্য আজ আমরা অন্যান্য ব্লগারেরা পরিচয় দিতে লজ্জা পাই? আমরা কি নাস্তিক? আমরা নিজের ধর্মকে ভালোবেসেও কি ঐ দু চার নাস্তিকের জন্য আমরাও নাস্তিক টাইটেল বহন করব?