-->

Featured post

ফ্রিতে Payoneer মাস্টারকার্ড নিন খুব সহজে

আসসালামু আলাইকুম। কিছুদিন আগে popads নামক একটি ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে মাস্টারকার্ড অর্ডার করা যেত। কিন্তু সেই অফারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে...

ইসলাম ধর্মে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব


আমরা সবাই জানি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ইসলাম ধর্মে এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব নিয়ে একটি নিবন্ধ খুঁজে পেয়েছেঃ
মহান আল্লাহ মানুষকে তাঁর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, বিশেষ উপলক্ষে তাকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। তারও আগে পৃথিবীকে মানব বসবাসের উপযোগী করে তৈরি করেছেন। মানব জাতির সব চাহিদা পূরণের যাবতীয় আয়োজন করে তিনি যে উপযুক্ত প্রতিবেশ সাজিয়েছেন, তা হলো আমাদের প্রকৃতি। পরিবেশ বলতে আমরা বুঝি আমাদের চারপাশের অবস্থা। এই পরিমণ্ডলে রয়েছে গাছপালা, নদ-নদী, ফুল-ফল, পশু-পাখিসহ নানান আয়োজন। এগুলো নৈসর্গিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ। এ ছাড়া মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে খোদার দান প্রকৃতির মধ্যে যে ইতিবাচক কল্যাণকর পরিবর্তন সৃষ্টি করে, তা হলো সামাজিক পরিবেশ। যেমন: রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, কলকারখানা ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে, সামাজিক পরিবেশ বিনির্মাণে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যা প্রকৃতিতে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে।

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। সে হিসেবে মানুষের চলাফেরা, আচার-ব্যবহার, আখলাক-চরিত্র, রুচিবোধ, মননশীলতা—সবকিছু শ্রেষ্ঠ হবে, এটাই স্বাভাবিক। একই সঙ্গে মানুষ সামাজিক জীব, মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে; তাই মানুষের নিজেদের সুরক্ষার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করতে হবে, পাশাপাশি জীবনকে আরও সুন্দর ও উপভোগ্য করার জন্য সামাজিক পরিবেশের উন্নতি করতে হবে। প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা এবং সুন্দর পরিবেশ তৈরির জন্য যুগে যুগে আল্লাহপাক নবী-রাসুলদেরও নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি হজরত নূহ (আ.)-এর পূর্ব পর্যন্ত নবীদের প্রধান কাজ ছিল মানব বসবাসের উপযোগী সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা। ইসলামের উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘‘দুনিয়ার শান্তি ও পরকালে মুক্তি’।
আবহাওয়া বা জলবায়ু আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত
আমাদের প্রকৃতির প্রধান ও শ্রেষ্ঠ অংশ হলো ‘আবহাওয়া’ তথা পানি ও বাতাস। এ দুটি উপাদান আমাদের প্রতিনিয়ত প্রয়োজন। তাই পানি ও বাতাস দূষণমুক্ত রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও সামাজিক কর্তব্য। ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য, এ গ্রহের নিরাপত্তার জন্য আমাদের জল-বায়ু সংরক্ষণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনি তোমাদের মৃত্তিকা হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতেই তোমাদের আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন।’ (১১ সূরা হুদ, আয়াত: ৬১)।
পরিবেশ সংরক্ষণেরমাধ্যমে পৃথিবীতে আবাদ হতে পারে। পরিবেশ যখন সংরক্ষিত থাকবে না, তখন পৃথিবীতে আবাদ হবে না এবং বসবাসের উপযোগী থাকবে না। পৃথিবী বাসযোগ্য থাকার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বস্তু হলো পানি। আল্লাহ তাআলা পানি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের
ষাট জায়গায় বলেছেন। পানি ছাড়া আমাদের জীবন অচল, তাই বলা হয় পানির অপর নাম জীবন। পানি আল্লাহর দেওয়া এক শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। সুতরাং এই নেয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রাণবান সবকিছু পানি হতে সৃষ্টি করেছি।’ (২১ সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩০)। পানি হচ্ছে প্রাণ সৃষ্টির মূল উপাদান, এই উপাদান সংরক্ষণ করার জন্য কোরআনে কারিমে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা
পরিবেশ বলতে আমরা সাধারণত সুন্দর পরিবেশ, উন্নত পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বুঝি। অর্থাৎ পরিবেশের সঙ্গে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। যেমন পানি হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান উপাদান। পানি ছাড়া গাছপালা, বন-বনানী, নদী-নালা, পশু-পাখি কল্পনাও করা যায় না। পানির অস্তিত্ব প্রাণীর অস্তিত্বের পূর্বশর্ত। সেই পানি কিন্তু সবচেয়ে বেশি পবিত্র, অর্থাৎ পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকেও পবিত্র করতে সক্ষম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তিনিই (মহান আল্লাহ) স্বীয় অনুগ্রহের প্রাক্কালে সুবার্তাবাহী বায়ু প্রেরণ করেন এবং আমি (আল্লাহ) আকাশ হতে পবিত্র (ও পবিত্রকারী) বারি বর্ষণ করি। যা দ্বারা আমি মৃত ভূমিকে জীবিত করি এবং আমার সৃষ্টির বহু জীবজন্তু ও মানুষকে উহা পান করাই।’ (২৫ সূরা ফুরকান, আয়াত: ৪৮-৪৯)।
পরিবেশদূষণ ও অপরিচ্ছন্নতা
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সুন্দর পরিবেশের প্রথম বৈশিষ্ট্য। তাই প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা পরিবেশকে দূষিত করবে না।’ পুকুরের পানি, নদীর পানি, আবদ্ধ জলাশয়ের পানি যেন দূষিত না হয়, সে জন্য প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘আবদ্ধ পানি ও জলাশয়ের পানিতে তোমরা প্রস্রাব করবে না। প্রস্রাব করে তোমরা পানিকে দূষিত করে সেখানে আবার গোসল করবে না।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস: ৪২৪)।
প্রতিটি মানুষের সুস্থতার জন্য পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত পানির প্রয়োজন সর্বাগ্রে। তাই মহানবী (সা.) পানিকে পবিত্র রাখতে এবং পানিকে সংরক্ষণ করতে বলেছেন; কোনোভাবেই যাতে পানি অপবিত্র ও দূষিত হতে না পারে। কারণ দূষিত পানির মাধ্যমে পানিবাহিত রোগ সৃষ্টি হতে পারে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘খবরদার! তোমরা পানির মধ্যে নিশ্বাস ত্যাগ করবে না বা ফুঁ দেবে না।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস: ১৪১০)। এই হাদিসটিতে খাওয়ার পানির কথা বলা হয়েছে। কারণ মানুষের নিশ্বাসের সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়; যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পানির অপচয় সম্পর্কে প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রয়োজনের অধিক পানি অপচয় করবে না। যদিও তোমরা বহমান নদীর তীরে থাকো।’ (বুখারি)।
অতএব, আমাদের উচিত পানিকে দূষণমুক্ত রাখা এবং পানির অপচয় রোধ করা। পানির পাশাপাশি আরও যত প্রাকৃতিক সম্পদ আছে—সবকিছুর যথাযথ ব্যবহার, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করে আমরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা না করলে মানব সভ্যতায় নেমে আসবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের ফলে জলে ও স্থলে বিপর্যয় ঘটেছে।’ (৩০ সূরা রুম, আয়াত: ৪১)। আল্লাহ তাআলা চান মানুষ সুন্দর পরিবেশে পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করুক।
সৈয়দ তানতাভী (র.) লিখেছেন, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের মধ্যে পাঁচ শতবার পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য উৎসাহিত করেছেন। পবিত্রতা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ব্যতীত সুন্দর পরিবেশ কল্পনা করা যায় না। প্রিয় নবী (সা.)
ইরশাদ করেন, ‘পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ।’ (মিশকাত শরিফ, পৃষ্ঠা ৩৮)। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরও ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তোমাদের উঠান-আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখো।’ প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্রতাকে ভালোবাসেন।’ এ ছাড়া কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও ভালোবাসেন।’ (০২ সূরা বাকারা, আয়াত: ২২২)।
পরিবেশ সুরক্ষা ইবাদত
ঈদ আনন্দময় ইবাদত, ইবাদত মানে আনুগত্য; যার উদ্দেশ্য হলো নিজের ও অপরের কল্যাণ করা এবং কারও ক্ষতি না করা। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। নিজে ভালো থাকা এবং অন্যকে ভালো রাখা তথা সুখী হওয়া ও সুখী করাই হলো ঈদ উদ্যাপন। কারও ক্ষতি করে, কাউকে কষ্ট দিয়ে প্রকৃত সুখ বা আনন্দ লাভ করা যায় না। মহান ঈদুল আজহার পর এখন আমাদের সবার দায়িত্ব পরিবেশের সুরক্ষা করা। আমাদের কর্মকাণ্ড যেন পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়। সবচেয়ে বেশি লক্ষ রাখতে হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি। বদ্ধ পুকুরে আবর্জনা ফেলা যাবে না।
কোরবানির পশু (গরু-মহিষ, ভেড়া-ছাগল ইত্যাদি) যেখানে জবাই করা হয়েছিল, সেই জায়গাগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন পানি ও বাতাস দূষিত না হয়। কারণ কোরবানি করা যেমন একটি ইবাদত, তেমনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং পরিবেশ সুন্দর রাখাও এর অংশ। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের পরিবেশ সুরক্ষা করুন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার ও সুন্দর পরিবেশ গড়ার তাওফিক দিন।